সেন্ট্রাল টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট ৬ সেপ্টেম্বর
দেশের সহস্রাধিক কেন্দ্রীয় সরকারি স্কুলে শিক্ষকতার যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা সেন্ট্রাল টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট (সিটিইটি) নেওয়া হবে ৬৬ সেপ্টেম্বর (রবিবার)। পরীক্ষায় পরিচালনা করবে সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)।
এই পরীক্ষায় সফল হলে দেশের সব কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, নবোদয়া বিদ্যালয় এবং সেন্ট্রাল টিবেটানা স্কুলগুলিতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার যোগ্যতা অর্জন করা যায়। এছাড়াও চণ্ডীগড়, লাক্ষাদ্বীপ আন্দামান-নিকোবর, দমন ও দিউ দাদরা ও নগর হাভেলি ও দিল্লি প্রশাসনের অধীনস্থ স্কুলগুলিতেও এই সব ক্লাসে শিক্ষকতার জন্য বিবেচিত হবেন এই পরীক্ষায় সফল হলে।দেশের বেসরকারি স্কুলগুলি এবং দেশের কোনও রাজ্যের সরকার রাজ্য স্তরে শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা (টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট) না নিলে সিটিইটি পরীক্ষাটির ফলাফলকে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রাহ্য করতে পারে। তবে কোনও ক্ষেত্রেই সিটিইটি-তে সফল হলেই নিয়োগ পাবেন না। বিভিন্ন স্কুল তাদের প্রয়োজনমতো শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞাপন দিলে এই যোগ্যতা থাকলে আবেদন করতে পারবেন। সি-টেট সার্টিফিকেট রেজাল্ট ঘোষণার পরা থেকে বৈধ থাকবে সারা জীবন।
সিটিইটি পরীক্ষায় বসার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষক পদের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে: মোট অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর-সহ উচ্চ মাধ্যমিক বা সমতুল। সেইসঙ্গে ২ বছরের ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশন (ডিএলএড) বা ৪ বছরের ব্যাচেলর অব এলিমেন্টারি এডুকেশন (বিএলএড) বা ২ বছরের ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন (স্পেশ্যাল এডুকেশন)। অথবা মোট অন্তত ৪৫ শতাংশ নম্বর-সহ উচ্চ মাধ্যমিক এনসিটিই রেগুলেশনস, ২০০২ অনুসারে ২ বছরের ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশন পাশ। অথবা মোট অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর-সহ গ্র্যাজুয়েট এবং ২ বছরের ব্যাচেলর অব এডুকেশন (বি এড)। অথবা মোট অন্তত ৫৫ শতাংশ নম্বর-সহ পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট এবং ৩ বছরের বি এড-এম এড ডিগ্রি।
ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষক পদের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে: গ্র্যাজুয়েট এবং সেইসঙ্গে এলিমেন্টারি এডুকেশনে ২ বছরের ডিপ্লোমা (ডিএলএড)। অথবা মোট অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর-সহ গ্র্যাজুয়েট বা পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট, সেইসঙ্গে ১ বছরের বি এড বা স্পেশ্যাল এডুকেশনে বি এড ডিগ্রি। অথবা মোট অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর-সহ উচ্চ মাধ্যমিক বা সমতুল, সেইসঙ্গে এলিমেন্টারি এডুকেশনে ৪ বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রি (বিএলএড) অথবা বি এ (এড) বা বি এসসি (এড)। অথবা মোট অন্তত ৪৫ শতাংশ নম্বর-সহ গ্র্যাজুয়েট এবং এনসিটিই রেগুলেশনস অনুসারে ১ বছরের বি এড ডিগ্রি বা স্পেশ্যাল এডুকেশনে বি এড ডিগ্রি। অথবা মোট অন্তত ৫৫ শতাংশ নম্বর-সহ পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট এবং ৩ বছরের বি এড-এম এড ডিগ্রি।
সব ক্ষেত্রেই শিক্ষক-শিক্ষণের ফাইনাল ইয়ারের প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারেন। তফসিলি, ওবিসি এবং দৈহিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীরা নম্বরে ৫ শতাংশ ছাড় পাবেন।
সব ক্ষেত্রেই স্পেশ্যাল এডুকেশনের শিক্ষক-শিক্ষণ কোর্স রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (আরসিআই) এবং সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষণ কোর্স এনসিটিই কর্তৃক স্বীকৃত হতে হবে।
সিটিইটি-তে বসার জন্য বয়সের কোনও বিধিনিষেধ থাকে না। তবে এই পরীক্ষায় সফলরা স্কুলে চাকরির জন্য আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট স্কুলের নিয়মকানুন মানতে হয়।
সি-টেট পরীক্ষায় অবজেক্টিভ ধরনের মাল্টিপল চয়েস প্রশ্ন হবে। দু'টি পত্রের পরীক্ষা। যাঁরা প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতা করতে চান তাঁরা প্রথম পত্রের এবং যাঁরা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার জন্য বিবেচিত হতে চান তাঁরা দ্বিতীয় পত্রের উত্তর করবেন। যাঁরা উভয় স্তরের জন্যই বিবেচিত হতে চান তাঁদের দু'টি পত্রেরই উত্তর দিতে হবে।
পরীক্ষা ৬ সেপ্টেম্বর। দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা, প্রথম পত্রের পরীক্ষা দুপুর আড়াইটে থেকে বিকেল ৫টা।
পেপার ওয়ানে থাকবে চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পেডাগজি, ল্যাঙ্গুয়েজ-১. ল্যাঙ্গুয়েজ-২, ম্যাথমেটিক্স ও এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ। প্রতিটি বিভাগ ৩০ নম্বরের, মোট নম্বর ১৫০। পেপায় টুয়ে থাকবে চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পেডাগজি, ল্যাঙ্গুয়েজ-১, ল্যাঙ্গুয়েজ-২ (প্রতিটি বিভাগ ৩০ নম্বরের) এবং ম্যাথমেটিক্স ও সায়েন্স টিচারের ক্ষেত্রে ম্যাথমেটিক্স অ্যান্ড সায়েন্স, সোশ্যাল স্টাডিজ বা সোশ্যাল সায়েন্স টিচারের ক্ষেত্রে সোশ্যাল স্টাডিজ বা সোশ্যাল সায়েন্স (৬০ নম্বর)। নেগেটিভ মার্কিং নেই।.
অনলাইন আবেদন করতে হবে এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে: https://ctet.nic.in প্রার্থীর চালু ই-মেল আইডি থাকতে হবে। আবেদন করা যাবে ১০ জুন পর্যন্ত। মনে রাখবেন, দরখাস্ত পূরণের সময় জেপিজি বা জেপেগ ফর্ম্যাটে স্ক্যান করা প্রার্থীর ফটো (১০ থেকে ১০০ কেবি সাইজের মধ্যে) ও সই (৩ থেকে ৩০ কেবি সাইজের মধ্যে) আপলোড করতে হবে।
ফি- বাবদ দিতে হবে একটি পেপারের পরীক্ষা দিতে চাইলে ১,০০০ টাকা (তফসিলি ও দৈহিক প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা) এবং উভয় পেপারের পরীক্ষা দিতে চাইলে ১,২০০ টাকা (তফসিলি ও দৈহিক প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে ৬০০ টাকা)। ফি জমা দেওয়া যাবে নেট ব্যাঙ্কিং বা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে।
ফি জমা দিয়ে পাওয়া রিসিট এবং অনলাইন দরখাস্ত সাবমিট করার পর পাওয়া কনফার্মেশন পেজের এক কপি সিস্টেম জেনারেটেড প্রিন্ট আউট নিয়ে নিতে হবে। এগুলি নিজের কাছে রেখে দেবেন। পরে প্রয়োজন হবে।
আগ্রহী প্রার্থীরা দেখুন উপরোক্ত ওয়েবসাইট। প্রয়োজনে দেখতে পারেন এই ওয়েবসাইটটিও: https://www.chse.gov.in

0 Comments