উপার্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে মাশরুম চাষ
সুস্বাদু, স্বাস্থ্যকর ও ঔষধিগুণ থাকায় খাবার ও ওষুধ তৈরির জন্য মাশরুমের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। এ রাজ্যে ধীরে হলেও মাশরুম চাষের প্রসার ঘটছে। মাশরুম চাষ খুবই লাভজনক ব্যবসা। তবে প্রশিক্ষণ নিয়ে তবেই ব্যবসায় অগ্রসর হওয়া ভালো।
পর্যাপ্ত খাদ্যগুণ থাকায় এবং একই সঙ্গে সুস্বাদু হওয়ার জন্য মাশরুম অত্যন্ত জনপ্রিয়। আমাদের দেশে ধীরে হলেও মাশরুম চাষের প্রসার ঘটছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী বাজারে জোগান এখনও কম।
বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য মাশরুম চাষ যথেষ্ট লাভজনক ব্যবসা হতে পারে। এ চাষের জন্য আবাদি জমির প্রয়োজন হয় না। যে-কোনও বয়সের পুরুষ ও মহিলা ঘরে বসেই মাশরুম চাষ করতে পারেন। চাষ করার পদ্ধতিও জটিল নয়। অন্যান্য সবজির তুলনায় বাজারে মাশরুমের দাম বেশি, লাভও বেশি। তা ছাড়া স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা ছাড়াও বিদেশে মাশরুম রপ্তানির সুযোগ রয়েছে।
সরকার মাশরুম চাষের জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করতে প্রশিক্ষণ ও ভর্তুকি দিয়ে থাকে। কম সময়ে, কম মূলধনে এবং কম জায়গায় এই ব্যবসাটি শুরু করা যায়। মাশরুম চাষে রোগ ও পোকার আক্রমণ অনেকটাই কম। তবে মাশরুম চাষ করতে চাইলে আগে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়া জরুরি।
চাষের পরিবেশ :
শীতে ভেজা স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার ঘর মাশরুম চাষের জন্য উপযুক্ত। গ্রীষ্মকালে যে-কোনও চালাঘরের নীচে এবং বারান্দায় বা ছাদে একটু জায়গা করে নিয়ে চাষ করা যায়। বর্ষায় জল প্রবেশ করে না অথচ বাতাস চলাচলের সুবিধা আছে এমন ঘর প্রয়োজন। মাশরুম নানা ধরনের হয়। প্রচলিত প্রায় সব ধরনের মাশরুমের জন্য পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া ও জলবায়ু উপযোগী। বিশেষ করে শীতে অয়েস্টার মাশরুম এবং গ্রীষ্ম ও বর্ষায় স্ট্র মাশরুম বেশ ভালো হয়।
প্রশিক্ষণ
জেএনএন অ্যাগ্রোবায়োটিক
কলকাতার বৈষ্ণবঘাটা পাটুলির জেএনএন অ্যাগ্রোবায়োটিক একটি বেসরকারি সংস্থা। প্রায় ১৫ বছর হয়ে গেল এই সংস্থা মাশরুম উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত এবং মাশরুম চাষে আগ্রহীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। কলকাতার বাইরে পশ্চিম মেদিনীপুরে জেএনএন অ্যাগ্রোবায়োটিকের আর-একটি শাখা আছে। কলকাতা ও মেদিনীপুরের দু'টি শাখাতেই মাশরুম চাষের একাধিক কোর্স করানো হয়। কোর্স শেষে ফার্ম ভিজিট করানো হয়। এই সংস্থা প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি বীজ এবং পরিণত মাশরুম বিক্রি করে। কেউ চাইলে তাদের কাছ থেকে মাশরুম কিনে ব্যক্তিগত ভাবে ব্যবসাও করতে পারেন। মাশরুম চাষ করার জন্য পরিকাঠামো তৈরি করতে চাইলে তাঁকে সব রকমের পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করা হয়। বিশেষ করে রাটন মাশরুমের পরিকাঠামো তৈরিতে সাহায্য করা হয়। এছাড়া বেশ কিছু মাশরুম আছে যা দিয়ে ওষুধ তৈরি হয়। সেই ধরনের কয়েকটি মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণও দেয় এই সংস্থা। এছাড়া জেএনএন অ্যাপ্রোবায়োটিক তৈরি করে মাশরুমের কুকিজ, আচার, সুপ পাউডার, নুডলস ইত্যাদি। এখান থেকে এই সব সামগ্রী কিনে বা প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজে তৈরি করে ব্যবসা করতে পারেন।
এখানে যে-কোর্সগুলি করানো হয়, সেগুলি হল-
অয়েস্টার ও মিল্কি মাশরুম: ১ মাসের সময়সীমায় ৭টি ক্লাস হবে। খরচ ২,৯০০ টাকা। বাটন মাশরুম: দেড় মাসের সময়সীমায় ১২টি ক্লাস হবে। খরচ ৩,৯০০ টাকা। অয়েস্টার, মিল্কি ও বাটন মাশরুমের কম্বাইন্ড কোর্স: দু' মাসের সময়সীমায় ১০টি ক্লাস হবে। খরচ ৪,৯০০ টাকা।
মেডিসিনাল মাশরুম: টার্কি, লায়নস মেন ইত্যাদি ঔষধিগুণ সম্পন্ন মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশ্ব জুড়ে এই মাশরুমগুলির যথেষ্ট চাহিদা। ১ মাসের সময়সীমায় ৬টি ক্লাস হবে। খরচ ২,৯০০ টাকা।
মাশরুম থেকে তৈরি খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতের প্রশিক্ষণ: মাশরুম থেকে কুকিজ, নুডলস, আচার, সুপ পাউডার, সস ইত্যাদি তৈরি করার পদ্ধতি শেখানো হয়। ১ মাসের সময়সীমায় ৮টি ক্লাস হবে। খরচ ৩,৫০০ টাকা।
আবেদন করার পদ্ধতি
কোনও নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। ভর্তি হওয়ার জন্য বছরের যে-কোনও সময় আবেদন করা যেতে পারে। কলকাতার বাইরে কোনও গ্রামে বা কোনও সংস্থা আয়োজিত কর্মশালায় গিয়ে প্রশিক্ষণ দেয় এই সংস্থা। সেক্ষেত্রে ১০ জনের একটি দল হলে ভালো হয়।
প্রশিক্ষণের পরে
প্রশিক্ষণের পরে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। ব্যবসা করতে ইচ্ছুকদের ভেন্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়। প্রয়োজনে মাশরুম চাষের সেট-আপ তৈরি করতে সাহায্য করা হয়। চাষের পরে এই সংস্থার কাছে মাশরুম বিক্রি করাও যায়।
যোগাযোগ: ৯১২৩০-০৬৬৫৮, ৯০৮৮০-৮৯০৮৫ (ফোন করার সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টার মধ্যে)।
ইনস্টিটিউট অব হর্টিকালচার টেকনোলজি
অফলাইন ও অনলাইনে মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ দেয় উত্তরপ্রদেশের নয়ডা ইনস্টিটিউট অব হর্টিকালচার টেকনোলজি। এই প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য বয়সের কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই কোর্সে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। মার্চে অফলাইন ও অনলাইনে কোর্স হবে।
কোর্সের নাম: মাশরুম প্রোডাকশন (অফলাইন) ও মাশরুম প্রোডাকশন

0 Comments