উপার্জনের পথ দেখাচ্ছে মিলেট
ধান ও গম জাতীয় দানাশস্যের ভালো বিকল্প হতে পারে মিলেট। মূলত রুক্ষ জমির ফসল, চাষে জল লাগে কম। সব চেয়ে বড় কথা, ধান-গমের চেয়ে ঢের বেশি উপকারী খাদ্যগুণ রয়েছে মিলেটে। সচেতন মানুষের মধ্যে ক্রমশ চাহিদা বাড়ছে এর, কিন্তু জোগান দেওয়ার লোকের অভাব। বাজারের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদাই উপার্জনের দিশা দেখাচ্ছে।
স্বাস্থ্য-সচেতন মানুষের মধ্যে মিলেট নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। আমাদের পরিচিত জোয়ার, বাজরা, রাগি এবং আরও কিছু দানাশস্য যেমন কাউন চাল, শ্যামা চাল, কোদো, কুটকি একসঙ্গে মিলেট নামে পরিচিত। পুষ্টিবিদদের মতে, মিলেটে মুটেন থাকে না। উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের গুণে ভরপুর এই খাবার দৈহিক স্থূলতা, রক্তে খারাপ
কোলেস্টেরল এবং শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। ভাত বা রুটির বদলে মিলেট খাওয়া বেশি স্বাস্থ্যকর। স্বাস্থ্যকর বলেই মিলেটের চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে, ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। ফলে মিলেটের চাষ খুলে দিতেই পারে ভালো উপার্জনের পথ।
এই জাতীয় শস্যগুলির চাষও তুলনায় সুবিধাজনক। বাজরা, রাগি, কুটকি, শ্যামাচাল, প্রোসো ইত্যাদি দানাশস্য
মূলত রুক্ষ জমির ফসল বলে জল অনেক কম লাগে। ফলে কোনও বছর বর্ষা কম হলেও ফলনে বিরাট প্রভাব পড়া বা আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা কম।
মিলেট নিয়ে কাজ
কলকাতায় গত কয়েক বছর ধরে মিলেট বিক্রি ও মিলেট দিয়ে তৈরি পুষ্টিকর খাবারের ব্যবসা করছে পৌষ্টিক লাইফ। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া,
মুর্শিদাবাদে যাঁরা মিলেট চাষ করেন তাঁদের কাছ থেকে সরাসরি মিলেট কেনে এই সংস্থা। তবে শুধু মিলেট নয়, অর্গ্যানিক আনাজপাতি থেকে শস্য, সবই বিক্রি করে পৌষ্টিক লাইফ। এর পাশাপাশি মিলেট দিয়ে খাবারও বানায় অর্ডার অনুযায়ী। সংস্থার তরফে রুথ চট্টোপাধ্যায় জানালেন, কী ভাবে মিলেট থেকে খাবার তৈরি করতে হবে,এই সংস্থা তার প্রশিক্ষণও দেয়।
কর্মশালা
মিলেট থেকে খাবার রান্না করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন অনেকেই। কারণ ভাত-রুটির চেয়ে মিলেটের কুকিং টাইম আলাদা। যেমন জোয়ার, বাজরা বা রাগির আটা দিয়ে রুটি বানাতে গেলেও গরম জল দিয়ে আটা মেখে মণ্ড করে রাখতে পারলে ভালো হয়। ভাতের মতো বাজরা সেদ্ধ করতে গেলে সারা রাত ভিজিয়ে রেখে প্রেশার কুকারে অনেকগুলো সিটি দিতে হবে। এই রকম মিলেট রান্নার অ-আ-ক-খ হাতে ধরে শেখানোর জন্যই কর্মশালার আয়োজন করে এই সংস্থা।
কী শেখানো হয়: বিভিন্ন ধরনের মিলেট সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। মিলেটের ব্যবহার সম্পর্কে 'ধারণা দেওয়া হয়। মিলেট থেকে রুটি, পরোটা, ভাত, পাস্তা, খিচুড়ি, পোলাও, ইডলি, বিভিন্ন মিষ্টি তৈরি করা শেখানো হয়। কর্মশালায় লাঞ্চ দেওয়া হয়। লাঞ্চের মেনুতে থাকে মিলেট দিয়ে তৈরি খাবার।
প্রশিক্ষণের খরচ: ৬০০ টাকা। উপকরণ আনতে হয় না।
প্রশিক্ষণের তারিখ: ১৭ মে, ২০২৫। এটি পৌষ্টিক লাইফের ষষ্ঠ কর্মশালা।
সময়: বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টে পর্যন্ত।
ফোন করে নাম নথিভুক্ত করতে পারেন এখনই। যোগাযোগ: ৮৯১০৩-৯৭২১১।
মিলেট উপার্জনের দিশা দেখাচ্ছে
- যাঁরা খাবারের ব্যবসা করছেন, বিশেষ করে হোম ডেলিভারি বা ক্লাউড কিচেনের সঙ্গে যুক্ত তাঁদের জন্য এই কর্মশালা উপযুক্ত। এখন মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে চান। কিন্তু তাঁরা তৈরি করার পদ্ধতি জানেন না, অথবা রান্না করার সময়ও পান না।
- যাঁদের খাবারের দোকান বা মুদিখানা আছে, মিলেটের তৈরি শুকনো খাবার সেখানে রাখতে পারেন বিক্রির জন্য। যাঁরা এ ধরনের খাবার তৈরি করছেন তাঁরাও সেগুলি রাখার জন্য বিভিন্ন দোকানে যোগাযোগ করুন। এই দানাশস্যের খাদ্যগুণ সম্পর্কে ক্রেতা ও বিক্রেতা, উভয়কেই বোঝাতে হবে।

0 Comments