ভবিষ্যতের দিশারি হাইড্রোপোনিক কৃষি বিস্তারিত জেনে নিন !

ভবিষ্যতের দিশারি হাইড্রোপোনিক কৃষি

ভবিষ্যতের দিশারি হাইড্রোপোনিক কৃষি


জনসংখ্যা বাড়ছে। চাষের ফলন বাড়াতে হবে। এদিকে চাষের জমি ক্রমশ কমছে। বিকল্প চাষের পদ্ধতি নিয়ে তাই ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। এমনই এক পদ্ধতি হাইড্রোপোনিক কৃষি। এই পদ্ধতিতে চাষাবাদে মাটির প্রয়োজন নেই। গ্রামে তো বটেই, শহরেও এই পদ্ধতিতে বাণিজ্যিক ভাবে ফসল ফলানো সম্ভব।

বিশ্বে বাড়ছে খাদ্যের চাহিদা, কিন্তু কমছে চাষযোগ্য জমি। জমির সমস্যা সত্ত্বেও চাষের পরিমাণ বাড়াতে অন্যতম আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি হাইড্রোপোনিক হচ্ছে। হাইড্রোপোনিক পদ্ধতিতে মাটি কৃষিকেই ভবিষ্যতের দিশারি মনে করা বিহীন পাত্রে শুধুমাত্র যথাযথ খাদ্য ও জলের সরবরাহ পেয়ে গাছ বেঁচে থাকে ও বৃদ্ধি পায়। এই পদ্ধতিতে প্রতিকূল পরিবেশেও খাদ্যের জোগান ঠিক রাখা যায়, পাশাপাশি ভূমিহীন কৃষকদেরও এই বিকল্প পদ্ধতিতে চাষের আওতায় আনা সম্ভব। শুধু কৃষকই নন, চাইলে শহরের একজন সাধারণ নাগরিকও এই বিকল্প চাষ নিজের বাড়ির সীমিত পরিসরেই শুরু করতে পারেন। বিভিন্ন -

শাক-সবজি, দানাশস্য, ফুল-ফল,স্যালাড জাতীয় ফসল ও ভেষজ গাছ হাইড্রোপোনিক পদ্ধতিতে চাষ করা যায়। এই পদ্ধতির চাষে অতিবৃষ্টি বা - খরায় ফসল নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না। রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফলে এই পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যিক ভাবে ফসল ফলানো সম্ভব।

হাইড্রোপোনিক পদ্ধতির দু'টি প্রকার। সলিউশন কালচার এবং মিডিয়াম কালচার।সলিউশন কালচারের জন্য প্রয়োজন জল। এতে মাটি বা ভার্মিকম্পোস্ট অর্থাৎ কঠিন বস্তু ব্যবহার করা হয় না, শুধুমাত্র পুষ্টি-মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। মিডিয়াম কালচারে উদ্ভিদের শিকড়কে ধরে রাখার জন্য দেওয়া হয় বালি, পাথরের এরপর টুকরো, নারকেলের ছোবড়ার আঁশ, ধানের তুষ, বাদামের খোসা ইত্যাদি। তবে এখানেও মাটির প্রয়োজন হয় না। চাইলে বাড়ির ছাদে কিংবা উঠোনেও এই পদ্ধতিতে চাষ করা যায়, ছোট-বড় আকারে।

ক্রমশ চাষের এই পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে আমাদের দেশ, আমাদের রাজ্য। বেকার তরুণ-তরুণীরা স্বনির্ভর হতে চাইলে এই পদ্ধতিতে কৃষিকাজের কথাও ভাবতে পারেন। জমির প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন কেবল প্রশিক্ষণ ও পুঁজির। যেহেতু এই পদ্ধতিতে চাষ পরিবেশবান্ধব, তাই প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পাওয়ারও সুবিধা আছে। আরও ভালো হয় যদি একটি পাঁচ-দশজনের গোষ্ঠী তৈরি করে নেওয়া যায়। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা এই ভাবে চাষের কথা ভাবতে পারেন।

প্রশিক্ষণ:-

ইনস্টিটিউট অব হর্টিকালচার টেকনোলজি

উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডার এই শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও অফলাইন হাইড্রোপোনিক্সের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য বয়সের কোনও বাধানিষেধ নেই। পুরুষ, মহিলা উভয়ই ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। কোর্সের নাম: কমার্শিয়াল হাইড্রোপোনিক। দু'সপ্তাহের কোর্সে প্রথম সপ্তাহে ক্লাস

হবে অনলাইন, দ্বিতীয় সপ্তাহে অফলাইন ট্রেনিং। পড়ানোর মাধ্যম হিন্দি ও ইংরেজি। প্রশিক্ষণের দিন ও সময়: ৫ মে থেকে ১৫ মে, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। পড়ানোর মাধ্যম হিন্দি ও ইংরেজি। প্রশিক্ষণের খরচ: ৫০,৮৮০ টাকা। এর মধ্যে হোস্টেলে থাকা ও খাওয়া বাবদ খরচ ধরা আছে। অফলাইন ও অনলাইন, উভয় কোর্সের ক্ষেত্রে ১৫ জনকে নিয়ে এক-একটি ব্যাচ তৈরি হয়। আবেদন করা যাবে অনলাইন। আবেদন করতে পারেন এখনই।

আবেদনের পদ্ধতি ও অন্যান্য তথ্যের জন্য দেখুন এই ওয়েবসাইট: https://iht.edu.in/view-courses/

প্রয়োজনে ফোন করতে পারেন এই নম্বরে: (০১১) ৪৬৬০-৪৯৮৮, ০৮১৩০১-১৭৫১১।

Post a Comment

0 Comments