সুগন্ধী তৈরি উপার্জনের পথ দেখাচ্ছে
ত্বকে অস্বস্তি জাগানো রাসায়নিক উপকরণ ছাড়াই, খাঁটি প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে পারফিউম তৈরি করে দেন পেশাদার সুগন্ধী নির্মাতারা। ক্রেতার মন যা চায়, ঠিক সেই গন্ধই বিতরণ করবে সেই সুগন্ধী। ইদানীং বাজার চলতি পারফিউমের কাটতিতে ভাগ বসিয়েছে এ ধরনের কাস্টমাইজড পারফিউম। আগ্রহীরা বানানো শিখে ব্যবসা করে ভালো উপার্জন করতে পারেন।
বাজারে নানা ধরনের সুগন্ধী পাওয়া যায়। কিন্তু সব সময় ঠিক পছন্দের গন্ধটি কি বাজারে মেলে? কারও কারও ত্বকে আবার রাসায়নিক উপাদানে তৈরি সুগন্ধী সহ্য হয় না। তবে এ সবেরই সমাধান আছে।
মনোমতো আর ত্বকের প্রতি যত্নশীল সুগন্ধী তৈরি করে নেওয়া যায়। এর জন্য পেশাদাররা আছেন। তাঁরা ক্রেতার পছন্দ জেনে নিয়ে সেই মতো পারফিউম বা আতর তৈরি করে দেন।
এই ধরনের কাস্টমাইজড সুগন্ধী ঘরোয়া ভাবে বানানো হয়, তাতে নামমাত্র রাসায়নিক উপাদান থাকে। অনেক ক্ষেত্রে শুধুই এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করা হয়। ফলে ত্বকে কোনও অস্বস্তি বা ত্বকের কোনও ক্ষতি হয় না। শুধু নিজের, ব্যবহারের জন্য
নয়, জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, যে-কোনও আনন্দ-উৎসবে উপহার দেওয়া যায় এই ধরনের সুগন্ধী। সেক্ষেত্রে যাঁকে উপহার দেওয়া হবে, তাঁর পছন্দ ও রুচির কথা জানা থাকলে আরও ভালো।
ঘরোয়া ভাবে এবং ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী কাস্টমাইজড পারফিউম তৈরি করে আপনিও বিক্রি করতে পারেন। তবে এর জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়া জরুরি।
পাঁচ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু, এখন সুগন্ধীর নিজস্ব স্টোর অদিতির
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সন্তোষপুরের বাসিন্দা অদিতি রায়চৌধুরী ঘরোয়া ভাবে সুগন্ধী তৈরি করে উপার্জন করছেন। প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর সুগন্ধী তৈরি করা শুরু করেন পাঁচ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে। আজ তিনি নিজের পারফিউম স্টোর খুলেছেন। ৯৫টি এসেন্সের সুগন্ধী পাওয়া যায় তাঁর স্টোরে। এছাড়া তিনি তৈরি করে দেন ক্রেতার মনের মতো কাস্টমাইজড পারফিউম।
অদিতির তৈরি সুগন্ধীর নাম 'রিয়াংশিজ এসেন্স'। অদিতি নিজের হাতে তৈরি করেন কাঠগোলাপ, পদ্ম, লাইম ফ্রেশ, জেসমিন, ল্যাভেন্ডার, অরেঞ্জ ব্লাস্ট, ফুটি ফ্রেশ, গ্রিন অ্যাপল, চন্দন ইত্যাদি একাধিক এসেন্সের সুগন্ধী।
'পুজোর সময় ধূপ-ধুনো, অগুরু ইত্যাদি মিলিয়ে যে-সুগন্ধ পাওয়া যায়, সেই সুগন্ধ আছে আমার তৈরি রূপং দেহী পারফিউমে। এছাড়া আতর তৈরি শুরু করেছি। চড়া গন্ধের আতরের পাশাপাশি হালকা গন্ধেরও আতর পাবেন আমার কাছে। সুগন্ধীর পাশাপাশি রুম ফ্রেশনার ও অ্যারোমা ডিফিউজারও তৈরি করি,' বললেন অদিতি।
ব্যবহারকারী ক্রেতার সূত্রে, লোকমুখে অদিতির তৈরি সুগন্ধী প্রচার পেয়েছে, তাছাড়াও অদিতি নিজে সোশ্যাল মিডিয়ায় যথেষ্ট সক্রিয়। চেনা গণ্ডির বাইরে, রাজ্য ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সুগন্ধী তৈরির অর্ডার পান। কুরিয়ারের মাধ্যমে মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, কর্নাটক, মেঘালয়, ওডিশা, ত্রিপরার ক্রেতাদের কাছে অদিতি পৌঁছে দেন তাঁর তৈরি পারফিউম। কলকাতা ও কলকাতার বাইরে বিভিন্ন প্রদর্শনীতেও যোগ দেন তিনি।
'এখন অনেকে আমার কাছ থেকে হোলসেলে পারফিউম কিনে নিজেদের দোকানে বা অনলাইনে বিক্রি করে উপার্জন করছেন,' জানালেন অদিতি।
অদিতির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন এই মোবাইল নম্বরে: ৯৮৭৫৩-৮১০৭৬।
কোথায় প্রশিক্ষণ
কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক স্বীকৃত প্রগতি রিসার্চ ইনস্টিটিউট সুগন্ধী তৈরির প্রশিক্ষণ দেয়। এই কোর্সে পারফিউম তৈরির পাশাপাশি শেখানো হয় মিঠা আতর, টয়লেট ফ্রেশনার, অগুরু এবং রুম ফ্রেশনার তৈরি। তিন মাসের মেয়াদে ১৫ থেকে ২০ দিন ক্লাস হয়। খরচ ৯,৮০০ টাকা। প্রগতি-তে এই কোর্সগুলিতে ভর্তি হওয়ার জন্য বছরের যে-কোনও সময়ই আবেদন করা যায়। হাতে-কলমে কাজ শেখার পর শিক্ষার্থী কীভাবে ব্যবসা করবেন, কোথা থেকে উপকরণ সংগ্রহ করবেন, কীভাবে লাইসেন্স পাবেন এবং মার্কেটিং সম্পর্কে যাবতীয় ধারণা তাঁকে দেওয়া হয়। কর্মশালায় যাবতীয় উপকরণ দেওয়া হয়। বাইরে থেকে শিক্ষার্থীকে কিছু আনতে হয় না। প্রশিক্ষণের পরে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। কোর্স শেষ হয়ে গেলেও যে-কোনও সময়, বিশেষ করে ব্যবসা করার সময় প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের কোনও সমস্যা হলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাঁদের পরামর্শ দেওয়া হয়।
যোগাযোগ: প্রগতি, নর্থ ঘোষপাড়া গ্যাসগিট রোড, বালি, হাওড়া। ফোন-২৬৭১-০২৯২, মোবাইল- ৯৪৩২৪-৯০৩২৯ (সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে ফোন করবেন)।


0 Comments