উপার্জনের পথে আলো দেখাচ্ছে মোমবাতি
মোমবাতি আলো ছড়ায়, ডিজাইনার মোমবাতি ঘরের শৈল্পিক শোভা বাড়ায়, ইদানীং মশা তাড়ানোর মোমবাতিও তার উপযোগিতা প্রমাণ করেছে। মোমবাতি বানানো শিখে নিজেই ব্যবসা করতে পারেন। উপার্জন ভালোই হবে।
লোডশেডিংয়ে মোমবাতির আলো জ্বালানোর অভ্যাস চলে গিয়েছে বাজারে চার্জেবল ব্যাটারির আলো এসে যাওয়ার পর। কিন্তু আজও ধর্মস্থানে, দীপাবলিতে বা উৎসবের দিনে মোমের আলো ছাড়া চলে না। ইদানীং ডিজাইনার মোমবাতি ঘর সাজানোর শৈল্পিক উপকরণ হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে এখনও সাধারণ, রঙিন, ছোট-বড়, জেল, সুগন্ধী, ডিজাইনার, ভাসমান ইত্যাদি নানা ধরনের ও আকৃতির মোমবাতির
বাজার বেশ ভালো। ডিজাইনার মোমবাতি উপহার দেওয়ারও চল হয়েছে এখন। হোটেল, রেস্তোরাঁ কিংবা স্পাতে সুগন্ধী মোমের চাহিদা রয়েছে।
প্রশিক্ষণ নিয়ে সাধারণ মোমবাতির পাশাপাশি জেল, সুগন্ধী, ও ডিজাইনার মোমবাতি, এমনকী মশা তাড়ানোর মোমবাতির ব্যবসাও করতে পারেন। সুন্দর নকশার ও ভালো মানের মোমবাতি এখন আঞ্চলিক বাজারের গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্য রাজ্যে এমনকী বিদেশেও পাড়ি দিচ্ছে। এই চাহিদার
কথা মাথায় রেখে মোমবাতি তৈরি করে ব্যবসা করার ইচ্ছে থাকলে প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
প্রশিক্ষণ
প্রগতি ভারত সরকারের ন্যাশনাল স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান। মোমবাতি তৈরির প্রশিক্ষণ দেয়। প্রগতি-তে বছরের যে-কোনও সময়ই ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করা যায়। প্রশিক্ষণের মেয়াদ ১৫ থেকে ১৮ দিন। এক মাস থেকে তিন মাসের মধ্যে শেষ করতে হয়। যাঁরা সপ্তাহে একদিন ক্লাস করতে চান তাঁদের কথা ভেবেই সময়সীমা তিন মাস করা হয়েছে।
সাধারণ মোমবাতি থেকে জেল, ভাসমান, সুগন্ধী, টেক্কা বা তেকোণা, বিভিন্ন আকৃতির বহুবর্ণ মোমবাতি এবং মশা তাড়ানোর মোমবাতি তৈরি এই কর্মশালায় শেখানো হয়। হাতে-কলমে কাজ শেখার পরে শিক্ষার্থী কীভাবে ব্যবসা করবেন, কোথা থেকে উপকরণ সংগ্রহ করবেন এবং মার্কেটিং কী ভাবে করবেন ইত্যাদি যাবতীয় ধারণা তাঁকে দেওয়া হয়। কর্মশালায় মোমবাতি তৈরির যাবতীয় উপকরণ দেওয়া হয়। বাইরে থেকে শিক্ষার্থীকে কিছু আনতে হয় না। কর্মশালা চলাকালীন যে-মোমবাতিগুলি তৈরি হয় তা শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে দিয়ে দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের ফি: ৯,৮০০ টাকা। প্রশিক্ষণের পরে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।
যোগাযোগ: প্রগতি, নর্থ ঘোষপাড়া গ্যাসগিট রোড, বালি, হাওড়া। ফোন-২৬৭১-০২৯২ (সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে)। মোবাইল-৯৪৩২৪-৯০৩২৯।
অন্যান্য জায়গায় প্রশিক্ষণ
রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ অ্যাপারাল ট্রেনিং অ্যান্ড ডিজাইন সেন্টার (ভারত সরকারের বস্ত্র মন্ত্রকের সাহায্যপ্রাপ্ত সংস্থা), এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একটি সহযোগী সংস্থা) ইত্যাদি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রশিক্ষণ প্রদানকারী সংস্থা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়। মোমবাতি তৈরির প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। সফল প্রশিক্ষণের পর অনেকেই স্বনির্ভর হয়েছেন।
এছাড়া ভারতের বিভিন্ন শহরে খাদি অ্যান্ড ভিলেজ ইন্ডাস্ট্রিজ কমিশনের মাল্টি ডিসিপ্লিনারি ট্রেনিং সেন্টারগুলিতেও মোমবাতি তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মোমবাতি তৈরির প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট থাকলে পরবর্তী কালে এই ব্যবসার জন্য ঋণ পেতে সুবিধে হয়।
মেশিন কোথায় কিনবেন
ভারত মেশিন টুলস ইন্ডাস্ট্রি মোমবাতি তৈরির মেশিন বিক্রি করে। মোমবাতি হাতে তৈরি করা যায়, আবার উৎপাদন বাড়াতে চাইলে মেশিন কিনে উত্পাদন করতে পারেন। ১০-১২ হাজার টাকা থেকে আড়াই লক্ষ টাকা দামের মেশিন রয়েছে। কোনওটা ম্যানুয়াল, কোনওটা আবার সেমি ম্যানুয়াল। ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে ম্যানুয়াল মেশিন। বিনামূল্যে ক্রেতার ব্যবসাকেন্দ্রে মেশিন ইনস্টল করে দেওয়া হয় এবং কর্মীদের ট্রেনিং দেওয়া হয়।
যোগাযোগ: ভারত মেশিন টুলস ইন্ডাস্ট্রি, ৬১. গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ, কলকাতা-৭০০০১৩, ফোন: (০৩৩) ২২৩৬-৮০১৫, ৯৪৩২৪-২২০৮৬।
মধুবনের পরিবেশবান্ধব মৌমোমের প্রদীপ
আমডাঙার মধুবন স্বনির্ভর মৌপালক গোষ্ঠী মাটির ভাঁড়ে বা প্রদীপে মৌমোম দিয়ে দিয়া তৈরি করছে, যা পুজোর কাজে বা অন্দরসজ্জায় ব্যবহৃত হচ্ছে। মোম বিভিন্ন ভাবে তৈরি হয়। প্রাকৃতিক মোম পাওয়া যায় মৌমাছিদের কাছ থেকে। এই মোম সংগ্রহ করেন মউ বা বি-কিপাররা। এই প্রাকৃতিক মোমের বা মৌমোমের একটা প্রাকৃতিক সুগন্ধ আছে। এই মোমে ফুলের পরাগ ও মধুও মিশে থাকে। মৌমোম সংগ্রহ করা যায় মৌমাছিকে কোনওরকম আঘাত না দিয়েই। আগ্রহীরা মৌমোমের প্রদীপ কিনতে পারবেন সরাসরি মৌপালকদের কাছ থেকে। মাটির প্রদীপের গায়ে আঁকা থাকে বিভিন্ন নকশা। মৌমোমের প্রদীপ কয়েক ঘণ্টা ধরে জ্বলে।
শুধু উৎসবের আগে নয়, সারা বছর এই মোমবাতি সংগ্রহ করা যায় এই সংস্থার কাছ থেকে। মধুবন থেকে প্রদীপ কিনে বিক্রি করতে পারেন। যাঁরা ইতিমধ্যে ইকো ফ্রেন্ডলি বা পরিবেশবান্ধব জিনিসের ব্যবসা করছেন বা ব্যবসা করার কথা ভাবছেন তাঁদের এই মৌমোম নিঃসন্দেহে উপার্জনের দিশা দেখাবে। যোগাযোগ: ৭৩৬৫৮-৬১০১৭ (ফোন করার সময় সন্ধে সাতটা থেকে রাত দশটার মধ্যে)।

0 Comments