নানা ধরনের খাতা বা নোটবই তৈরির ব্যবসা লাভজনক
স্কুল-কলেজে হাজিরা নথিভুক্তি থেকে শুরু করে, হোম টাস্ক কি ক্লাস ওয়ার্ক, কেমিস্ট্রি কি বায়োলজি ল্যাবরেটরির কাজকর্ম, চটজলদি হিসাব রাখা, সাধারণ লেখালেখি-ইত্যাদি বিবিধ প্রয়োজনে খাতার প্রয়োজনীয়তা আছে। বেকার তরুণ-তরুণীরা কয়েকটি মেশিন কিনে, খাতা তৈরি করে ব্যবসা করতে পারেন। লাভ ভালোই থাকবে।
স্কুল, কলেজ,অফিস, আদালত, দোকান, কারখানা সর্বত্র লেখালেখির জন্য, হিসাব রাখার জন্য, লিখিত রেকর্ড রাখতে ছোট-বড় নানা ধরনের খাতার প্রয়োজন হয়। সাদা পাতার খাতা ছাড়াও লাইন টানা, প্র্যাক্টিক্যাল, হিসাবশাস্ত্রের লেজারবুক ইত্যাদি নানা ধরনের খাতা বাজারে পাওয়া যায়। ক্রেতা তাঁর প্রয়োজন অনুসারে কেনেন। এর পাশাপাশি রঙিন মলাট দেওয়া শৌখিন নোটবইয়ের প্রচলনও বেড়েছে। বিশেষ করে উপহার দেওয়ার জন্য।খাতা এমনই এক অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী, যার কোনও বিকল্প নেই।
এমনকী ডিজিটাল প্রযুক্তিও তার সঠিক বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি ফলে খাতার চাহিদা থাকবেই। বেকার তরুণ-তরুণীরা খাত তৈরি করে স্কুল-কলেজ, অফিস এবম বই-খাতার দোকানে জোগান দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন। উপার্জন ভালোই হবে।
খাতা তৈরির গোড়ার কথা
খাতা তৈরির প্রধান উপকরণ কাগজ। সস্তায় রিম কাগজ কিনতে হবে। এটি কেনার পুরনো দু'টি জায়গা কলকাতার বৈঠকখানার বাজার ও রাজাবাজার। এছাড়া স্থানীয় ভাবে খোঁজ করলেও পেতে পারেন।
খাতা তৈরির জন্য মূলত তিনটি মেশিনের প্রয়োজন- পেপার কাটিং মেশিন, স্টিচিং মেশিন এবং প্রেসিং মেশিন। এ ছাড়াও লাইন টানা খাতা বা লেজার বুক তৈরির জন্য রুলিং মেশিন লাগবে। প্রতি পাতায় সিরিয়াল নম্বর লেখার জন্য প্রয়োজন হবে কাউন্টিং মেশিনের।
ব্যবসা শুরু করতে পারেন কেবল সাদা খাতা তৈরি করা দিয়ে। সেক্ষেত্রে রুলিং ও কাউন্টিং মেশিনের প্রয়োজন হবে না। এই সবগুলি মেশিনই ম্যানুয়াল, সেমি-অটোমেটিক ও সম্পূর্ণ অটোমেটিক- এই তিন ধরনের হয়।
খাতা তৈরির প্রক্রিয়াটি খুব কঠিন কিছু নয়। পেপার কাটিং মেশিনে প্রথমে সাদা পাতা, খাতার মাপ অনুযায়ী কেটে নিতে হবে। এরপর মলাট ও পাতা একসঙ্গে স্টিচ বা সেলাই করতে হবে স্টিচিং মেশিনে। সবশেষে হার্ডপ্রেস মেশিনের মাধ্যমে খাতাগুলোকে পরপর সাজিয়ে সমান আকারের করে নিতে হবে।
খাতার মলাট বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। একটা শিটে চারটে মলাট থাকে। বড় খাতা হলে দুটো খাতার জন্য একটা শিট খাতা হলে চারটে খাতার জন্য একটা শিট লাগবে।
প্রাথমিক ভাবে তিনটে মেশিন নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন। ১০ বর্গফুটের একটা ঘর থাকলেই হবে। ম্যানুয়াল, সেমি-অটোমেটিক বা অটোমেটিক- মেশিন অনুযায়ী দাম পড়বে ২ লক্ষ থেকে ১৫ লক্ষের মধ্যে। কোনওটা ম্যানুয়াল, কোনওটা অটোমেটিক বা সেমি অটোমেটিক-এরকম মিলিয়েমিশিয়েও কিনতে পারেন বাজেট অনুযায়ী।
মেশিন পাওয়া যাবে: ভারত মেশিন টুলস ইন্ডাস্ট্রি-তে। ঠিকানা: ৬১, গণেশচন্দ্র ২২৩৬-৮০১৫, ৯৪৩২৪-২২০৮৬। অ্যাভিনিউ, কলকাতা-৭০০০১৩। ফোন-(০৩৩)

0 Comments