লোহার গ্রিলের ব্যবসা লাভজনক
জানলায় লোহার গ্রিল। গ্রিলের তৈরি দরজা। বারান্দা ঘেরা লোহার গ্রিলে। এমনকী বাড়ির পাঁচিলের উপর নিরাপত্তাসূচক লোহার তির। বাড়ি নির্মাণের সঙ্গে লোহার গ্রিলের ওতপ্রোত সম্পর্ক। মেশিন কিনে অর্ডার নিয়ে গ্রিল তৈরির ব্যবসায় লাভের সম্ভাবনা যথেষ্ট ভালো।
বাড়ি বা যে-কোনও নির্মাণের কাজে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় লোহার গ্রিল। জানলায়, দরজায় বা বারান্দার মতো কোনও জায়গা ঘিরতে লোহার গ্রিল ব্যবহার করা হয়। বস্তুত প্রিলের কোনও বিকল্প নেই। তাই বাজারে এর চাহিদা সব সময় তুঙ্গে।
ইদানীং নানা শৌখিন নকশার লোহার গ্রিলের চাহিদা খুব বেশি। মূলত তা বাড়ির জানলার জন্য। যে-কোনও ডিজাইনের লোহার গ্রিল তৈরির জন্যই কয়েকটি মেশিনের প্রয়োজন হয়। এগুলির মধ্যে অন্যতম ওয়েল্ডিং ট্রান্সফর্মার মেশিন।
গ্রিল তৈরি ছাড়াও এই মেশিনের মাধ্যমে লোহা ঝালাইয়ের কাজ, লেদ কারখানার কাজও করা যায়। অর্ডার নিয়ে এই মেশিনের সাহায্যে লোহার গ্রিল তৈরির ব্যবসা করাই যায়। তবে নিজে স্বাধীন ভাবে ব্যবসা শুরু করার আগে, কোনও গ্রিল তৈরির কারখানায় শিক্ষানবিশ হয়ে কিছু দিন কাজ করে কাজ শিখে নিলে ভালো।
কীভাবে তৈরি হয় : লোহার গ্রিল তৈরির কাঁচামাল লোহা। লোহা কিনতে হবে পাইকারি বাজার থেকে। গ্রিলের ডিজাইন অনুযায়ী সেই লোহা কাটিং মেশিনের সাহায্যে নির্দিষ্ট মাপে কেটে নিতে হবে। তারপর ডিজাইন অনুযায়ী আকার দিয়ে ওয়েল্ডিং ট্রান্সফর্মার মেশিনের সাহায্যে টুকরোগুলিকে জুড়তে হবে। সব শেষে কম্প্রেসরের মাধ্যমে রং করতে হবে। এই সব মেশিন চালাতে ২২০ থেকে ৪৪০ ভোল্ট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।
মেশিনের দাম: ২৫০ অ্যাম্পিয়ার বৈদ্যুতিক চাহিদা থেকে ওয়েল্ডিং ট্রান্সফর্মার মেশিনের রকমফের শুরু। ন্যূনতম অ্যাম্পিয়ারের মেশিনের দাম ৬০ হাজার টাকা। যত বেশি অ্যাম্পিয়ারের মেশিন, তত দক্ষতার সঙ্গে দ্রুত কাজ, দামও তত বেশি। এ ছাড়া লোহা কাটিং মেশিনের দাম ১২ হাজার টাকা এবং মোটর সমেত ১০০ পাউন্ডের কম্প্রেসরের দাম ১৭ হাজার টাকা।
মেশিন কোথায় পাবেন : গ্রিল তৈরির যাবতীয় মেশিন পাবেন ভারত মেশিন টুলস ইন্ডাস্ট্রিতে। ঠিকানা: ৬১, গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ, কলকাতা-৭০০ ০১৩, ফোন: (০৩৩) ২২৩৬-৮০১৫, ৯৪৩২৪-২২০৮৬।
কাঁচামাল কেনা থেকে মার্কেটিং, যাবতীয় বিষয়ে প্রাথমিক ভাবে সাহায্য করবেন মেশিন বিক্রেতা। তবে, একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে। সফল ভাবে ব্যবসা করতে গেলে আগে বাজার সমীক্ষা করে নিন।
নিজের অঞ্চল ও সংলগ্ন অঞ্চলে ঘরবাড়ি তৈরির সঙ্গে যাঁরা যুক্ত তাঁদেরকে আপনার ব্যবসার কথা জানান। এভাবে বাজারের চাহিদা সম্পর্কে একটা ধারণা পাবেন। প্রথমে অল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করুন। চাহিদা বুঝে ধীরে ধীরে পুঁজি বাড়ানোর কথা ভাবা উচিত।

0 Comments