মালবেরি ফল চাষের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা
পশ্চিমবঙ্গের মালবেরি ফল তেমন পরিচিত নয়। যদিও এই ফলটির স্বাদ যেমন ভালো, তেমনই তা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। সাধারণ ভাবে-এই গাছের পাতা রেশম মথের লার্ভার প্রিয় খাবার বলেই কয়েক জায়গায় চাষ করা হত। তবে ইদানীং পশ্চিমবঙ্গের নানা জেলায় ফলের জন্য মালবেরি চাষ করা হচ্ছে। বাজারেও পাওয়া যাচ্ছে। অপরিচিত এই গাছ, তার গুণাগুণ, চাষের পদ্ধতি, রোগ-পোকার আক্রমণ থেকে গাছকে বাঁচানোর বিষয় বিস্তারিত ভাবে জানাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম কৃষিঅধিকর্তা সৌমেন্দ্রনাথ দাস।
মালবেরি গাছ বলতে আমরা সবাই ভূঁতকেই চিনি। যদিও ফল উৎপাদনকারী মালবেরি গাছের সঙ্গে বাহ্যিক চেহারায় তুঁত গাছের মিল থাকলেও দু'টি গাছ সম্পূর্ণ আলাদা। তুঁত বা মালবেরি গাছের চাষ হয় কেবল রেশমমথ প্রতিপালনের জন্য। রেশম মথের লার্ভা বা কীরার খাবার হিসেবে তুঁত গাছের নরম ও কচি পাতা ব্যবহার করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে রেশম চাষের জেলাগুলি হল মালদা, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার আর বীরভূম।
এই রাজ্যে মালবেরি মূলত স্বল্পপরিচিত ফল। লোকে তেমন একটা চেনেও না। অথচ অসাধারণ পুষ্টি ও ভেষজ গুণে সমৃদ্ধ এই ফলটি। ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে এর চাষ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এই রাজ্যের লাল ল্যাটেরাইট মাটি, উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়াবিশিষ্ট পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমান ও মেদিনীপুর জেলায় এই ফলটি চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এর চাষ এলাকার লোকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নেরও এক উজ্জ্বল দিশারি হতে পারে।
ইতিহাস
আনুমানিক ৪,৭০০ বছর আগে চিনে সর্বপ্রথম ভুঁত বা মালবেরির চাষ শুরু হয়, মূলত রেশম উৎপাদনের কাজে লাগানোর জন্য। এর পরবর্তী সময়ে মালবেরির চাষ ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলিতে। ভারতের কর্নাটক, তামিলনাডু, জম্মু ও কাশ্মীর এবং অস্ত্রপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতে - মূলত রেশমমথের লার্ভার খাবার হিসেবে পাতার জন্য মালবেরির চাষ শুরু হয়।
যদিও বাণিজ্যিক ফল হিসেবে মালবেরির চাষ ভারতে শুরু হয়েছে সম্প্রতি। ভারতে উৎপাদিত মালবেরি ফল বাজারে বিক্রি হচ্ছে এবং যথেষ্ট চাহিদাও তৈরি রয়েছে।
পুষ্টিগুণ
মালবেরি বা ভুঁত ফল টক-মিষ্টি স্বাদবিশিষ্ট এবং উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। পাকা ফল ভিটামিন-সি, আয়রন, পটাশিয়াম, প্রোটিন এবং শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ। পাকা ফলের ১০০ গ্রাম খাদ্য-উপযোগী শাঁসের মধ্যে আছে ৪৩ কিলোক্যালরি শক্তি, ৯.৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১.৪ গ্রাম প্রোটিন, ১.৭-২.০ গ্রাম ফাইবার বা আঁশ, ৩৬-৮৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন-'সি', ১,১৪১-৩,২৭৮ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ১৩৯-৫৮৩ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১৮৩-২৩৩ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ১.৮৫-৪৫.৬ মিলিগ্রাম আয়রন এবং ১১.৫-৬৩.৫ মিলিগ্রাম সোডিয়াম। ভিটামিন-'সি' ছাড়াও এই ফলের মধ্যে মজুত রয়েছে প্রায় ৭.৮ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন-'কে'-১, ০.৮৭-০.৯৮ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন-'ই' এবং অল্প পরিমাণ ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩ এবং বি-৬। এছাড়াও মালবেরি ফলের মধ্যে অ্যানথোসিয়ানিন, রেসভেরাট্রল এবং ক্লোরোজেনিক অ্যাসিডের মতো শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টগুলি মজুত থাকায় দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুলাংশে বাড়াতে সাহায্য করে।
ভেষজ গুণ
* মালবেরি ফল অত্যন্ত সুস্বাদু, পুষ্টি ও ভেষজগুণ সম্পন্ন সুপার ফুড। * মালবেরির পাকা ফলের নির্যাস ও শুকনো ফলের গুঁড়োর মধ্যে রক্তে দ্রুত শর্করার পরিমাণ কমানোর অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে।
* এই ফল রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড এবং এলডিএল কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
* ভিটামিন-'সি', অ্যানথোসিয়ানিন, রেসভেরাট্রল এবং ফেনোলিক যৌগ মজুত থাকায় মালবেরি ফল খেলে দেহের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। * এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দূরীকরণে সাহায্য করে এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি করে।
* পাকা ফলে প্রচুর পরিমাণে আয়রন মজুত থাকায় এটি অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতার সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে, এমনকী রক্ত সঞ্চালনের কাজকেও উন্নত করে।
* মালবেরি ফলে রেসভেরাট্রল এবং কুয়েরসেটিন নামক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকায় এই ফলটি দেহের প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে।
* ফলের মধ্যে ফ্লাভোনয়েড যৌগ বয়সকালে চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং ভিটামিন-'সি' থাকার জন্য মালবেরি ফল চোখে ছানি পড়ার সমস্যা ঠেকাতেও সাহায্য করে। আবার জিয়াকজ্যানথিন থাকার জন্য দৃষ্টিশক্তি ভালো হয়।
* মালবেরি ফল ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং অন্যান্য সক্রিয় জৈব যৌগ সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে যাহায্য করে। এমনকী ক্ষতস্থানের দ্রুত নিরাময়ও করতে পারে।
*এই ফল ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য আমাদের ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
* ফলের মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং ফেনলিক যৌগ ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে যাহায্য করে।
মালবেরি ফলের প্রকারভেদ
ফলের রং অনুসারে মালবেরি গাছ তিন প্রকারের হয়-
১) সাদা রঙের ফল: এই গাছটির বিজ্ঞানসম্মত নাম মোরাস অ্যালবা। এর আদি নিবাস চিন। সাদা রঙের ফলগুলি ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ।
২) কালো রঙের ফল: এই গাছের বিজ্ঞানসম্মত নাম মোরাস নাইগ্রা। এর আদি নিবাস দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া মহাদেশ। ফলের অসাধারণ ভেষজ গুণ রয়েছে। এই ফলটি কোষ্ঠকাঠিন্য ও গলাব্যথা সারাতে সাহায্য করে এবং প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়াও এই ফলের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট গুণাবলিও উল্লেখযোগ্য।
৩) লাল রঙের ফল: লাল রঙের মালবেরি ফলগাছের বিজ্ঞানসম্মত নাম মোরাস রুরা। এর আদি নিবাস উত্তর আমেরিকা। ফলটি ভিটামিন, খনিজ মৌল ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ।
ফলের ব্যবহার
* টক-মিষ্টি স্বাদের টাটকা, সতেজ এবং পাকা ফল সরাসরি খেতে পারেন। এর প্রাকৃতিক টক ও মিষ্টতা, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং ফাইবার বা আঁশ আমাদের যেমন পেট ভর্তি রাখে, তেমনই দেহকে কর্মক্ষম করে রাখে। প্রতিদিন এক জন পূর্ণবয়স্ক মানুষ ১৪০ গ্রাম পরিমাণ টাটকা ফল খেতে পারেন।
* টাটকা অথবা ফ্রিজে রাখা পাকা ফলকে চিনি ছাড়া পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে শরীরে খুবই পুষ্টিকর উপাদান পাওয়া যায়।
* অত্যন্ত উপাদেয় ও পুষ্টিকর মিক্সড ফ্রুট সালাডেও থাকতে পারে মালবেরি। * দই অথবা ওটমিলের উপর মালবেরি ফল ছড়িয়ে সকালের খাবারের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ দুই বাড়নো যাবে।
* পরিপক্ক মালবেরি ফল থেকে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর জ্যাম, জেলি, পানীয়, এমনকী মদ তৈরি করে সংরক্ষণ করে রাখা যায় এবং প্রয়োজন অনুসারে খাওয়া যায়।
* মালবেরি ফল দিয়ে আইসক্রিম এবং শরবত তৈরি করেও খাওয়া যায়। এতে যেমন ফলের পুষ্টিগুণ বজায় থাকে, তেমনই প্রাকৃতিক মিষ্টত্ব পাওয়া যায়।
* বাদাম ও বীজের সঙ্গে শুকনো মালবেরি ফল মিশিয়ে বাড়িতে পুষ্টিকর জলখাবার হিসেবে খেতে পারেন। এতে ফাইবার, প্রোটিন, খনিজ মৌল এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকাতেই খাবার পুষ্টিকর হয়।
* কেক তৈরি করার জন্য পাকা মালবেরি ফল ব্যবহার করা হয়।
* আধপাকা মালবেরি দিয়ে উপাদেয় চাটনি তৈরি করা যায়।
* কাস্টার্ড এবং পুডিংয়ের সঙ্গেও মালবেরি ফল মিশিয়ে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।
মাটি ও জলবায়ু
পশ্চিমবঙ্গে মালবেরি ফলের নানান ধরনের মাটিতে জন্মানোর ক্ষমতা রয়েছে। উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া এই ফলের জন্য আদর্শ। মাটির পিএইচ হতে হবে ৬.২-৬.৮।
জাত
এই রাজ্যে চাষের উপযুক্ত মালবেরির উচ্চফলনশীল জাতগুলির মধ্যে পাকিস্তান ব্ল্যাক লং, সাহারানপুর লোকাল, ব্ল্যাক বিউটি, এস-৩৬, ভি-১ এবং চিয়াংরাই ১৬ উল্লেখযোগ্য।
বংশবিস্তার
মালবেরির বীজ থেকে তো বটেই,, কাণ্ডের অংশ কেটে নিয়ে, এমনকী জোড়াকলম বা গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমেও চারা তৈরি করা যায়। তবে দ্রুত এবং সঠিক গুণমানের ফল পেতে হলে কাণ্ডের অংশ কেটে এবং জোড়া কলম পদ্ধতিতে তৈরি চারাই লাগানো উচিত।
জমি তৈরি
বর্ষা আসার পূর্বে জমি লাঙল দিয়ে চাষ দিয়ে নিতে হবে। এরপর ৪৫×৪৫×৪৫ সেমি মাপের গর্তগুলি ৬ মিটার ব্যবধানে খুঁড়ে নিতে হবে। চারা বসানোর ১৫ দিন আগে গর্ত-প্রতি ১০ কেজি কম্পোস্ট অথবা গোবর সার এবং ২৫ গ্রাম দানাদার কীটনাশক মাটির সঙ্গে মিশিয়ে গর্তগুলি ভরাট করে দিতে হবে।
চারা বসানো
বর্ষার শুরুতে অর্থাৎ জুন-জুলাই মাসে, গর্তের ঠিক মাঝে চারাগুলি বসাতে হবে যাতে বৃষ্টির জলে চারাগুলি ঠিকমতো বসে যায়।
সার প্রয়োগ
বছরে এক বার, ঠিক ফুল আসার আগে প্রতিটি পূর্ণবয়স্ক গাছে ৩০-৪০ কেজি আবর্জনা বা গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়াও বর্ষা শুরু হওয়ার ঠিক আগে প্রতিটি গাছে সুফলা এনপিকে ১৫:১৫:১৫ অনুপাতে ৫০০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে। এর ফলে গাছে ফলের সংখ্যা বহুলাংশে বেড়ে যাবে।
সেচ প্রয়োগ
যদিও মালবেরি গাছের দীর্ঘ সময় খরা সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে, তবু গ্রীষ্ম ও শীতের মরসুমে সেচ দিলে ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। বিন্দু সেচ অথবা ড্রিপ সেচ পদ্ধতির মাধ্যমে জল প্রয়োগ করলে জলের খরচ বহুলাংশে (৪০%) কমানো যায়।
যত্ন ও পরিচর্যা
নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে জমিতে থাকা আগাছা তুলে ফেলতে হবে। জমিতে ছায়া-গাছ লাগালে সূর্যের তাপ ও গরম বাতাস থেকে মালবেরি গাছকে রক্ষা করা সহজ হবে। গাছের গোড়াসংলগ্ন মাটির উপরিভাগ শুকনো ঘাস, গাছের পাতা অথবা খড় দিয়ে ঢেকে দিলে মাটির রস দীর্ঘ সময় ধরে রাখা যাবে এবং সেচে জলের পরিমাণও কম লাগবে।
গাছে ফুল ও ফল ধরে নতুন ডালপালায়। গাছের ডালপালা ছাঁটাই করতে হবে ঠিক সেই সময়, যখন গাছের পাতাগুলি খসে পড়বে। ডালপালা ছাঁটাইয়ের ফলে গাছে নতুন ডালপালা গজাবে।
ফুল ও ফল উৎপাদন
পূর্ণবয়স্ক ফলগাছে ফুল আসার উপযুক্ত সময় ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাস। ফল পাকার সময় মে-জুন মাস।
ফল তোলা
পরিপক্ক ফলগুলির উপরিভাগে রঙের পরিবর্তন শুরু হলেই বুঝতে হবে ফল পাড়ার উপযুক্ত সময় হয়ে গেছে। ৩-৪ দফায় কিছু সময়ের ব্যবধানে গাছ থেকে ফলগুলি পেড়ে নিতে হবে। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে বছরে গড়ে প্রায় ১০-১৫ কেজি ফল পাওয়া যাবে।
ফল তোলার পরের কাজ
পাকা মালবেরি ফল দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই দেরি না করে, বিভিন্ন মাপের ফলগুলিকে আলাদা করে বাজারে বিক্রির জন্য পাঠাতে হবে। এ ছাড়াও স্থানীয় হিমঘরে কিছু দিনের জন্য পাকা ফল সংরক্ষণ করা যায়। কাঠের অথবা বাঁশের তৈরি বাক্স অথবা বাঁশের ঝুড়ি ভর্তি করে, তার উপর মালবেরি গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে, পরিবহণের মাধ্যমে দূরবর্তী বাজারে বিক্রির জন্য মালবেরি ফল পাঠানো হয়।
রোগ ও পোকার সমস্যা
মালবেরি ফলের গাছ যথেষ্ট কষ্টসহিষ্ণু এবং রোগ-পোকার আক্রমণ সহ্য করতে পারে। সেজন্য এই চাষে তেমন একটা সমস্যা হয় না। তবে, নিয়মিত গাছের প্রতি নজর রাখতে হবে। রোগ-পোকার আক্রমণ দেখা দিলে শস্য সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
রোগের মধ্যে ডাইব্যাক দেখা দিতে পারে। এতে ডালপালার ডগার দিক হঠাৎ শুকিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। ছত্রাকঘটিত রোগটি ঠেকাতে আক্রান্ত গাছের ডালপালাগুলি দেরি না করে ছেঁটে ফেলতে হবে। ডগার কাটা প্রান্তে বোরডেক্স মলমের প্রলেপ দিতে হবে এবং ১% বোরডেক্স মিশ্রণ অথবা ব্লাইটক্সের জলীয় দ্রবণ (প্রতি লিটার জলে ৪ গ্রাম হিসেবে) স্প্রে করে গাছ ভিজিয়ে দিতে হবে।
পোকার মধ্যে পাতাখেকো গুঁয়োপোকার বাড়ন্ত কীরাগুলি গাছের কচি পাতা, এমনকী বাড়ন্ত কাণ্ডের কচি ডগা খেয়ে ক্ষতিসাধন করে। এই পোকার আক্রমণ থেকে গাছকে বাঁচাতে ইমামেকটিন বেপ্পোয়েট ৫ এসজি প্রতি লিটার জলে ০.৫-০.৮ গ্রাম হিসেবে মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে।


0 Comments